Header Ads


কাটারিভোগ চালের পরিচয়

 কাটারিভোগ চালের পরিচয় পর্ব ঃ1


কাটারিভোগ চাল নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে।মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁর দরবারে দিনাজপুরের রাজা প্রাণনাথকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। রাজার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ছিল। স্বাভাবিকভাবেই একজন সম্রাটের সঙ্গে দেখা করার সময় যে কেউই কিছু উপঢৌকন নিয়ে যায়। রাজাও সম্রাটকে খুশি করার জন্য হীরা, পান্না, স্বর্ণমুদ্রার সাথে কাটারিভোগ চাল নিয়ে যান। সম্রাট আওরঙ্গজেব উপঢৌকন হিসেবে পেয়ে যতটা না খুশি হয়েছিলেন, তার থেকে বেশি খুশি হয়েছিলেন কাটারিভোগ চাল পেয়ে। দুর্নীতি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা বিচার করার বদলে সম্রাট প্রাণনাথকে ‘মহারাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন।আনুমানিক, একশ বছর আগে থেকে দিনাজপুর জেলায় সুগন্ধি কাটারিভোগের চাষাবাদ হচ্ছে। খেতে সুস্বাদু এই কাটারিভোগ চাল মাথার দিকে ছুরির মতো একটুখানি চোখা ও বাঁকা। সাধারণত চিড়ার রং ফ্যাকাশে ধূসর হলেও এ ধানের চিড়া হালকা সাদা রঙের হয়। চাল তো বটেই, কাটারিভোগের চিড়ায়ও মিষ্টি সুগন্ধ থাকে।


কাটারিভোগ চাল দিয়ে পোলাও ছাড়া মজাদার বিরিয়ানি, জর্দা, পায়েশ ও ফিরনি রান্না করা হয়।বিশেষ জাতের ধান থেকে সুগন্ধি চাল তৈরি হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশে আমন ও বোরো মৌসুমে সুগন্ধি ধান চাষ করা সম্ভব।উত্তরাঞ্চলে প্রধানত দিনাজপুর,ঠাকুরগাঁও,পঞ্চগড়,রংপুর,নওগাঁ,রাজশাহী জেলায় সুগন্ধি ধান উৎপাদিত হয় কাটারিভোগ ধানের আতপ চালের পোলাও জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

কাটারিভোগ ধানের চিঁড়া হয় হালকা ধবধবে সাদা ও এতে আছে মিষ্টি সুগন্ধ আদিকাল থেকে সুগন্ধি চাল অভিজাত শ্রেণির আচার অনুষ্ঠানে স্থান পায়। আজও দিনাজপুরের কাটারিভোগ সুগন্ধি চাল দেশি-বিদেশি অতিথি আপ্যায়নে সুনাম বজায় রেখেছে। সুগন্ধি চালের পোলাও ছাড়া পিঠা-পুলি, বিরিয়ানি, জর্দা, পায়েশ ও ফিরনি বেশ চমৎকার ও সুস্বাদু-যা জিভে জল আনে। এখনও দিনাজপুরের কৃষকরা মসজিদে মিলাদে এবং লক্ষ্মী-নারায়ণ পূজায় এ চাল ব্যবহার করে থাকে।

No comments

Theme images by RASimon. Powered by Blogger.