কীভাবে কন্টেন্ট রাইটিং এ আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করবেন -
**প্রতিদিন লিখুন - **
ভালোভাবে লিখার সেরা টিপস গুলোর
একটি হলো প্রতিদিন লিখার অভ্যাস করা । একজন ভালো কন্টেন্ট রাইটার হবার জন্য প্রতিদিন লিখার অন্য কোনো বিকল্প নেই । আপনি কি যেকোনো কিছু নিয়ে লিখতে পারেন ? নতুবা লিখতে আগ্রহী ? তাহলে প্রতিদিন এই অভ্যাসটি চালিয়ে যান ।
আমি সাধারণত আমার ব্লগে বিভিন্ন বিষয়ের উপর লিখে থাকি । এটি আমাকে দারুণভাবে সাহায্য করে থাকে । বিভিন্ন বিষয়ের উপর লিখার ফলে লিখার ক্ষেত্রে এটি নতুন নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করে থাকে । আর প্রতিদিন লিখার ফলে লিখালিখির উপর ভালো একটি অভ্যাস গড়ে ওঠে । এতে আপনার সর্বোপরি লিখার যে দক্ষতা আছে সেটি বৃদ্ধি পায় । শুধু ব্লগপোষ্ট কিংবা ওয়েবসাইটের জন্য নয়, আপনি চাইলে আপনার সোশ্যাল নেটও্যার্কিং সাইটগুলোতেও প্রতিনিয়ত লিখার চর্চা করতে পারেন । তবে সবচেয়ে ভালো হয় আপনি যে বিষয়ের উপর কন্টেন্ট লিখতে যাবেন সেটি নিয়ে ৬/৭ লাইন অথবা আপনি যতটুকু চান ততটুকু লিখে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে পাবলিশ করে দেখতে পারেন । তবে একটি কথা না বললেই নয় - লিখার আগে অবশ্যই রিসার্চ করবেন ।
**একটি আউটলাইন তৈরি করুন**
আপনার লেখার দক্ষতা উন্নত করার সর্বোত্তম উপায়গুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আপনার লেখার সমস্ত কিছুর একটি রূপরেখা (আইউটলাইন) তৈরি করা । আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে থাকেন তাহলে দেখবেন ক্লায়েন্ট একটি সুসংগত এবং সম্পূর্ণ পোস্ট চাচ্ছে আপনার কাছে । তাই একটি রূপরেখা থাকলে এটি আপনার ক্লায়েন্টকে বুঝতে সাহায্য করবে যে আপমি উক্ত আর্টিকেলে কি কি বিষয় নিয়ে লিখতে চলেছেন । পার্সোনালি আমি যা করি , প্রথমে আমি কি নিয়ে লিখবো সেটা ভেবে নিই, তারপরে এটির ভেতরে আর কি কি সাব টপিক নিয়ে আসা যায় সেটির একটি তালিকা করি । উক্ত বিষয়ের সাথে প্রাসংগিক কোনো তথ্য থাকলে সেটি অন্তর্ভুক্ত করি । এভাবে হচ্ছে , আপনি একটি খসড়া তৈরী করে ফেলতে পারেন । তাতে আর্টিকেল লিখতেও সুবিধা হবে । আপনার এক্ষেত্রে আরো বেশি সুবিধা হবে অন্যান্য ফ্রিল্যান্স রাইটার কিংবা ব্লগার যারা আছেন তারা কে কীভাবে লিখছেন সেগুলো ফলো করা ।**যা লিখতে চাচ্ছেন সেটা সম্পর্কে পড়ুন **
আপনি যা লিখতে চলেছেন সেটি সম্পর্কে আগে পড়ুন । আপনারা অনেকেই জানেন যে আপনি যত পড়বেন আপনার লিখার দক্ষতাও কিন্তু তত বাড়বে । তাই প্রচুর পরিমাণে পড়তে হবে । ব্লগার কিংবা ফ্রিল্যান্স রাইটারদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য ।**কেনো পড়বেন ?**
আপনি কি নিশ নিয়ে লিখবেন সেটি আপনিই ভাল জানেন, রাইট ? স্বাভাবিকভাবেই আপনি যখন লিখতে যাবেন আপনার নিশ রিলেটেড টপিক নিয়ে তখন অন্যান্য রাইটার/ব্লগাররা কি লিখেছেন সেটি থেকে আইডিয়া নিবেন । তারা কিভাবে কন্টেন্টটি কে ড্রাইভ করছে , ঐ কন্টেন্টের ব্যাপারে পাঠকদের মনোভাব কেমন সেগুলো আপনি পড়বেন । আর এই পড়ার কারণে আপনিও ভালো আইডিয়া পেয়ে যাবেন যে কি কি বিষয়গুলোর উপর আপনার ফোকাস করা উচিত , কি কি বিষয় নিয়ে অন্যরা আলোচনা করে নি , মোটামোটি এসব ব্যপারে একটা স্পষ্ট ধারণা আপনার চলে আসবে। এছাড়াও বিভিন্ন রাইটার/ ব্লগারের লিখা পড়ার ফলে তাদের লিখার স্টাইল সম্পর্কেও আপনার ভালো একটি আইডিয়া জেনারেট হবে । শুধু আইডিয়াই নয় , তারা কীভাবে শব্দ ব্যবহার করে , তাদের বাক্যগুলো ব্যবহারের প্রক্রিয়া থেকেও আপনি অনেককিছুই শিখতে পারবেন ।**আকর্ষণীয় শিররোনাম ব্যবহার করুন - **
আপনি যে বিষয়ে লিখতে চাচ্ছেন সেটার উপর একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম দিন । আকর্ষণীয় শিরোনাম সবসময়ই একজন পাঠকের মনযোগ আকর্ষণ করে থাকে । শিরোনাম পড়ে অনেকেই কৌতুহলি হয়ে আর্টিকেল পড়তে আসবেন । তাই আকর্ষণীয় শিরোনাম ব্যবহারের গুরুত্ব অনেক ।**সহজ শব্দ ব্যবহার করুন **
এখানে অনেকেই K.I.S.S এর ব্যবহার করে থাকেন । যার অর্থ হচ্ছে কিপ ইট সিম্পল স্টুপিড আপনি ব্লগারই হোন অথবা একজন রাইটারই হোন আপনি যদি ভেবে থাকেন যে শব্দের জটিলতায় আপনার দক্ষতা প্রতীয়মান হচ্ছে তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন । একজন পাঠক সবসময়ই সহজ লেখাকে পছন্দ করে থাকেন । তাই চেষ্টা করুন লিখাকে যতটুকু সম্ভব সহজ রাখার জন্য । অনেকেই লিখতে গিয়ে আর্টিকেলের অবস্থা এমন করেন যেনো মনে হয় কলেজের প্রাক্টিকেল খাতা লিখতে বসেছেন । হাহাহ । ইউ আর স্মার্ট এনাফ ব্র, ডোন্ট ডু দিস । এটি করলে আপনার সাইটে আসা পাঠক/ভিজিটর সাইটে বেশিক্ষণ থাকবে না । লিখুন এমনভাবে যাতে লিখা দেখলে মনে হয় আপনি যেনো পাঠকের সাথে গল্প করছেন । হয়তো প্রথমেই এমনটি হবে না, কিন্তু চেষ্টা চালিয়ে গেলে একসময় এটি আয়ত্তে চলে আসবে ।**পরিষ্কার ধারণা প্রদান করুন - **
আপনি যা নিয়ে লিখতে চলেছেন সেটা যেনো আপনার লিখা পড়ে বুঝা যায় । অর্থাৎ একজন পাঠক যেনো বুঝতে পারেন আপনি লিখার মাধ্যমে কোন মেসেজটি তাদেরকে দিতে চাচ্ছেন । অর্থাৎ আপনি যালিখবেন সেটি যেনো আপনার শিরোনামের সাথে প্রাসংগিক হয় । নাহলে আর্টিকেল কেউই পড়তে চাইবে না । চেস্টা করুন সহজ, সুন্দর ও সাবলীলভবে আপনার আর্টিকেলটিকে পাঠকের কাছে তুলে ধরার ।**ফিলার ওয়ার্ড এড়িয়ে চলুন **
পফিলার শব্দ যেমন : that, very, just, really, etc.. এগুলো আর্টিকেলে প্রয়োজন না হলে বেশি ব্যবহার না করাই শ্রেয় । যতটা সম্ভব এগুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন । আমি যেসকল আর্টিকেল লিখি তাতে প্রায় সময়ই এগুলোকে এড়িয়ে যাবার চেস্টা করি । আপনি যদি হোন একজন নতুন রাইটার / ব্লগার তাহলে চিন্তার কিছু নেই, সময়ের সাথে সাথে শিখে যাবেন অনেক কিছুই ।**ভোকাবুলারি সমৃদ্ধ করুন - **
যারা যারা ইংরেজিতে আর্টিকেল রাইটিং করবেন / করতে চান তারা ভোকাবুলারির উপর জোর দিন । কেননা আওনার ভোকাবুলারি যত সমৃদ্ধ থাকবে আপনি লেখার ক্ষেত্রেও তত স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করতে পারবেন । তেমনি একই শব্দের পুনরাবৃত্তিও দূর করতে পারবেন ।**শব্দ বা বাক্যকে অযথা দীর্ঘায়িত না করা -
একসাথে সবকিছুকে না লিখে চেস্টা করুন ভেঙ্গে ভেঙ্গে অথবা প্যারাগ্রাফ আকারে লিখার । কারন একইসাথে সবকিছু লিখলে এটি পড়ার ক্ষেত্রে পাঠকদের বাধার সৃষ্টি করে । বস্তুতপক্ষে পাঠকের আগ্রহ জাগে না ঐ আর্টিকেলটি পড়ার । প্যারাগ্রাফ আকারে লিখলে আর্টিকেলটি মনযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হবে । অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা বাক্যকে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন ।



No comments